আজকে আমার ঠাকুমার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২১ সালের এই দিনেই তিনি গত হয়েছিলেন।
এইটুকু পড়েই অনেকে হয়তো, 'ওঁ শান্তি, আত্মার শান্তি কামনা করি, তিনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন' ইত্যাদি মন্তব্য করবেন। তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য, বাকি পোস্টটুকু পড়ে দেখলে ভালো হয়।
আমাদের সাধারণ একটা প্রবৃত্তি হল এই যে, মানুষের মৃত্যুতে আমরা তার সমস্ত দোষ মাপ করে দিই। ভাবখানা এই, যে মৃত্যু একখানা বিরাট বড় ইরেজার - জীবনখাতার প্রতি পাতায় আমরা যত ভুলচুক করে থাকি, মৃত্যু দিয়ে সেটাকে প্রাণপণে ঘষে তুলে দেওয়া যায়। এর উল্টোটাও দেখা যায় যদিও বা; কোনো বিখ্যাত লোক মারা গেলেই তিনি জীবনে সামান্যতম ভুল করলে সেটাকে ছিদ্রান্বেষণ করে খুঁড়ে বের করে এনে 'দেখুন, যাঁর উদ্দেশে আপনারা হ্যাজাচ্ছেন, তিনি কত বড় অপরাধী!’ মর্মে পোস্ট নামানো শুরু হয়ে যায়। সেই স্বার্থভিত্তিক ব্যাপারটাকে আপাতত বাইরে রেখে বলার, মানুষকে মৃত্যুর পর একটা অত্যন্ত উঁচু ডেকচেয়ারে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে দোষ-পাপ-অপরাধ ইত্যাদির ছায়া ট্যানজেন্ট হয়ে পড়ে না।
আমার আবার ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যাপারটায় কিঞ্চিৎ আপত্তি আছে। যিনি সারাজীবন ধরে অন্যের কান্নার কারণ হলেন, অন্যের মানসিক স্বাস্থ্যকে শেষ করে দিলেন সম্পূর্ণভাবে - সেই মানুষ মারা গেলে আমি 'আহা গো, কী দুঃখ গো, যাকগে, সব ভুলে যাই গে, তিনি তো এখন আত্মা, প্রেত, ভূত, পেত্নি, মাথায় হ্যালো ইত্যাদি’ করটে পারিনা। যিনি খারাপ, তিনি খারাপই - তাঁকে মৃত্যু, জন্ম, অন্নপ্রাশন, শ্রাদ্ধ, বাৎসরিক কিস্যুই মহান-মহীয়সী করে দিতে পারেনা।
আমার ঠাকুমা ঠিক এইরকমই এক মানুষ ছিলেন। এর শিকার? আমার মা।
আমার মায়ের বিয়ে হয় '৯৬ সালে। ৬ বছরের প্রেমপর্ব শেষে বিয়ে হয় মা-বাবার। বিয়ের পরে মা শ্বশ্রুগৃহে পদার্পণ করে। উলেক্ষ্য, আমার মা পরিণয়কালে ছিলেন একজন মাস্টারডিগ্রি হোল্ডার, প্রেসিডেন্সি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার। না, সে স্কলার হয়ে যে উদ্ধার করেছে, তেমনটা ঠিক না। আসলে, যাঁরা মনে করেন, 'মিসেস’ সিনেমাটি খুবই বাস্তববিমুখ (আমি নিজে দেখিনি যদিও বা), খুবই মিথ্যাচার করা হয়েছে - তাঁদের জন্য এই ক্ষুদ্র তথ্যটা পরিবেশন করলাম - যে, হ্যাঁ - উচ্চশিক্ষিত এবং কোয়ালিফায়েড মেয়েরাও এইসমস্ত ঘটনার সম্মুখীন হন, শিকার হন। আর যাঁদের জীবনে শিক্ষার আলো সেভাবে পড়েনি, প্রিভিলেজ যাঁদের খিড়কিতে কড়া নাড়তে পারেনি - তাঁদের যে কী অবস্থা হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
যাইহোক, ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে। আসল কথায় ফেরা যাক।
আমার দাদু (ঠাকুরদা)-রা তিন শরিক মিলে একই বাড়িতে থাকতেন। আমার মায়ের দুই খুড়শ্বশুর এবং খুড়শাশুড়ির মদতপুষ্ট হয়ে আমার ঠাকুমা এবং দাদু শুরুর দিন থেকেই শুরু করে দিলেন বধূনির্যাতন। শারীরিক নির্যাতন করতে পারেনি যদিও, আমার বাবা মায়ের পক্ষ নিয়েছিল বলে - কিন্তু, মানসিক নির্যাতন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলত। কীরকম? একটু নজির দেওয়া যাক।
আমার মা বাড়িতে ম্যাক্সি/নাইটি পরে অভ্যস্ত। বিয়ের পর থেকেই ফতোয়া জারি করা হল, সে শাড়ি ব্যতীত অন্য কিচ্ছুটি পরতে পারবে না, এবং - মাইন্ড ইট, সময়টা ১৯৯৬ এবং আমার ঠাকুমা নিজে শিক্ষিতা (?), স্থানীয় স্কুলের পার্টটাইম টিচারও ছিলেন - বাইরের লোকজনের সামনে, পরপুরুষের সামনে ‘ঘোমটা’ দিয়ে থাকতে হবে। মাকে সরাসরি বলে দেওয়া হয়েছিল, ‘শোনো, বিয়ের আগে যা হয়েছে হয়েছে। এখন থেকে আগের মতো ওসব চলবে না আর।’
আমার মা যতই শাড়ি ভালোবাসুক, সারাদিন শাড়ি পরে থাকার মতো কোনোদিনই ভালোবাসত না। এখনও না। এমনিও, বাড়িতে সবারই খোলামেলা থাকতে ইচ্ছে করে। গরমকালে আমার দাদুরা ঊর্ধাঙ্গ অনাবৃত করে ঢোলাঢালা লুঙ্গি পরে ঘুরবেন, আমার বাবা-কাকারা হাফপ্যান্ট পরে ঘুরবেন - আর আমার মা, সারাগায়ে ‘ফাইভ ইয়ার্ড অফ এলিগ্যান্স’ জড়িয়ে, মাথায় ঘোমটা দিয়ে গলদঘর্ম হয়ে ঘুরবেন। খুবই ভালো সিদ্ধান্ত, এতে সন্দেহ নেই কোনো।
আমার মা একেবারে বিড়াল প্রকৃতির - মাছ ছাড়া মা খেতেই পারত না। মাছ শুধু খেতোই না, উপভোগ করে খেতো রীতিমতো - কাঁটাটাঁটা চিবিয়ে একেবারে চেটেপুটে খেতো। আর সত্যি বলতে, মা বাপের বাড়িতে থাকাকালীন প্রায় সবসময়েই বড়ো, ভালো মাছটা পেতো - অত্যন্ত ভালোবাসত বলেই। আমার দিদা অন্যদিকে অত্যন্ত অসভ্য প্রকৃতির মহিলা, মা-ভল্টু (মায়ের বাবা)র জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন - কিন্তু তিনি অবধি মাকে বড়ো মাছটা দিতেন। এমনকী, বিয়ের সময়েও ভল্টু আমার দাদুকে অনুরোধ করেছিল করজোড়ে, যে, ‘দাদা, আমার মেয়েটা খুব মাছ ভালোবাসে। একটু মাছ দেবেন ওকে ভালো!’ যাইহোক - আমার দাদু মাছ খেতো না নিজে। মাছ খাওয়ার লোক তিনজন - আমার বাবা, ঠাকুমা আর মা (শরিকরা একান্ন ছিল না)। আমার ঠাকুমা খেতে দেওয়ার সময়ে হাতা দিয়ে মায়ের সামনে রীতিমতো বাছত - যে মাছটা সবথেকে বড়ো, সেটা বাবা পেতো; তার পরের বড়ো মাছটা ঠাকুমা, আর শেষের সবথেকে ছোটো যে মাছ, সেটা পেতো মা। অনেকসময়ে বড়ো মাছের পিসকে আদ্ধেক করে মাকে দুবেলা ওই হাফ পিস করে দেওয়া হতো। আহা, বাড়ির বৌ - মাছটাছের মতো অত কিছু দেওয়ার কী আছে? খেতে দিচ্ছে, এই অনেক!
যখন আমি মায়ের পেটে, তখন মা'র এটা ওটা সেটা খেতে খুব ইচ্ছে জাগত - আর আমার চিরকালের আত্মসম্মানী মা, যে মুখ ফুটে নিজের চাহিদার কথা কোনোদিন বলতে পারত না, সে পর্যন্ত থাকতে না পেরে বলে ফেলত - হাঁসের ডিম, পাঁঠার মাংস, ইলিশ মাছের কথা। একবার মায়ের ইলিশ মাছ খেতে ভারি ইচ্ছে করছে। ভরা বর্ষা তখন - ইলিশ বিকোচ্ছে জলের দরে। বার বার মা তখন কাকুতিমিনতি করে যাচ্ছিল, যেন একটু ইলিশ আনা হয়। আমার দাদু নির্বিকার - চারাপোনা ইত্যাদি যত যা সস্তা মাছ হয়, সেইসবই আনত। আমার দাদু এয়ারফোর্সের পেনশন পাওয়া লোক, নিজেরও অন্যান্য সোর্স অফ ইনকাম ছিল - ফলে তারা যে ঠিক দিন-আনা দিন-খাওয়া ছিল, এমনটাও না। ইলিশ একদিন আনা যাবে না, এমন দারিদ্র্য তাদের চৌকাঠ কোনোদিন মাড়ায়নি। বাধ্য হয়ে একদিন বাড়ির ঘর মোছা-বাসন মাজতেন যিনি - দুর্গা পিসি - তিনি পর্যন্ত বলে বসলেন, ‘তোমরা কি মানুষ ন'কাকা? ভরা পেট বৌটার, তাকে একদিন ইলিশ খাওয়াতে পারছ না? এখন ইলিশের যা দাম, আমাদের মতো মানুষদের ঘরেও প্রায় রোজই ইলিশ হচ্ছে। পয়সা নিয়ে কি সগ্গে যাবে?’
তাকে যথারীতি ‘তুই থাম দুগ্গা, আমাদের নিজেদের ব্যাপারে তোকে কথা বলতে হবে না।’ বলে থামিয়ে দেওয়া হয়। যদিও, মজার ব্যাপার - এই দুর্গা পিসি, বা বাসন্তী পিসি (রান্না করতেন) - এঁদের সঙ্গে আমার ঠাকুমা নিয়মিত মায়ের ব্যাপারে সমালোচনা করে যেতেন - সে কতটা দেমাকি, কতটা অসভ্য, তার বাবা বিয়েতে কিস্যু দেয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন যদিও ব্যাপারটা নিজেদের ছিল না বোধকরি।
আমার মা বইয়ের পাশাপাশি টিভি বলতে অজ্ঞান ছিল। খড়দহে দ্বিতীয় টিভিসেট আসে মা’দের বাড়িতেই (প্রথমটা আসে খড়দহের ডাকসাইটে বড়লোক পালচৌধুরীদের বাড়িতে)। ফলে, ছোটো থেকেই মা চুটিয়ে খেলা দেখত, ফলো করত, স্পোর্টস্টারের পাতা কেটে জমাত, ক্রিকেট-ফুটবল-টেনিস সবই সমানতালে দেখত, বাকি সিনেমা-চিত্রহার তো ছেড়েই দিলাম। সেই মায়ের টিভি দেখায় ইতি পড়ে গেল শ্বশুরবাড়িতে আসার পর। সেই শ্বশুরবাড়িতে উঠোনের বারান্দা পেরিয়ে ঢুকলেই ছিল ড্রয়িংরুম, যাতে সারাক্ষণই গাঁক গাঁক করে টিভি চলত। অথচ, আমার ঠাকুমা বা দাদু যদি ঘুণাক্ষরেও টের পেতেন যে মায়ের কোনো একটা প্রোগ্রাম ভালো লাগছে, বা দেখতে ইচ্ছে করছে - তখন তাঁরা টিভির চ্যানেল ঘুরিয়ে দিতেন, গম্ভীর মুখ করে বসে থাকতেন (এবং উত্তর দিতেন না কথার - বাড়ির বৌ হচ্ছে টিকটিকি, তার কথা শুনতে ভারি বয়েই গিয়েছে) এবং প্রয়োজনে টিভি অফ করেও দিতেন।
একবার টিভি-তে 'দেবী’ হচ্ছিল, আমার দাদু বসে দেখছিলেন। মা শুনতে পেয়ে খাটে গিয়ে বসে পড়ে। উচ্ছ্বসিত হয়ে দাদুকে বলে, ‘বাবা, কী দারুণ সিনেমা, না? আসল গল্পটাও অনবদ্য!’
দাদু তৎক্ষণাৎ টিভি অফ করে দেয়, এবং গম্ভীর মুখে বলে - 'অত জানিনা, আমরা তো আর তোমার মতো শিক্ষিত নই!’
মা পড়াশুনো জানত, বই পড়ত, পড়াশুনো করত বলে প্রতিটা মুহূর্তে ঠেস মেরে কথা। এমনকী, মা যাতে পড়তে না পারে - তার জন্য, মা পড়তে বসলে জোরে টিভি চালিয়ে দেওয়া, অকারণে কোনো একটা কাজের জন্য ডেকে পাঠানো (যেটা তক্ষুণি না করলেও চলে/ বাড়িতে কাজের লোক রয়েছে সেই কাজের জন্য), আলোপাখা নিভিয়ে দেওয়া - ইত্যাকার যা যা করণীয় এবং অকরণীয়, সবই আমার ঠাকুমা ও ঠাকুমার প্ররোচনায় দাদু প্রাণপণে করে চলতেন। ফলে, আমার মাকে বিএডের পড়া, চাকরি পড়া সবই করতে হত সবাই ঘুমিয়ে পড়লে - এবং, মোমবাতি জ্বালিয়ে। আলো জ্বালালে যে ইলেকট্রিক খরচা হবে!
এছাড়া, আরও নানাবিধ ঘটনা-নিত্যনৈমিত্তিক অপমান তো লেগেই থাকত প্রতিমুহূর্তে মনে করিয়ে দেওয়া, যে বিয়েতে বাপের বাড়ি থেকে সে সেভাবে কিছুই আনেনি; তার বাবা নিয়মিত দেখা করতে আসাটা অনুচিত; বাপের বাড়িতে তাকে যেতে হলে তিন-চার দফায় 'অনুমতি’ নিতে হবে; টেলিফোন করতে গেলে নিতে হবে অনুমতি। যদি তাঁদের ইচ্ছা হয়, তবেই এই 'দেমাকি’ বৌ যেতে পারবে বাপের বাড়ি, বা করতে পারবে একটা টেলিফোন। ব্যাঙ্কের লকার শেয়ার করা প্রসঙ্গে আমার দাদু আমার বাবাকে বলেছিলেন, ‘না, আমি চাই না করতে - যদি তোর স্ত্রী (স্বাভাবিক, আমার মায়ের পরিচয় নেই কোনো - একেবারে মনুর বই থেকে লাফ মেরে নেমেছে) সমস্ত গয়না গলিয়ে নেয়?’
যাকগে। এরকম বলতে থাকলে লেখাটা আরও বড় হতে থাকবে - ফুরোবে না। আর এমনিতেও, মানুষের ধৈর্য নেই বিশেষ, এইসব লেখা পড়ে দেখার। তাই আর বিশেষ বাড়াচ্ছি না। শুধু এটাই বলার, যে বিয়ের বছরখানেকের মধ্যেই মা সিভিয়ার ক্লিনিকাল ডিপ্রেশনে চলে যায় - সারাক্ষণ ওষুধ খেয়ে থাকতে হতো (যা নিয়েও তির্যক নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে)। বিয়ের চার বছরের মাথায় সে ভাগ্যিস একটা চাকরি পায়, এবং অন্যত্র চলে যায় সংসার নিয়ে - নয়তো, তাকে যে কী পথ বেছে নিতে হত, তা জানা নেই। জানতেও চাই না।
এইরকমটা আজও হয়ে চলে ঘরে-ঘরে। 'মিসেস’ বা 'গ্রেট ইন্ডিয়ান কিচেন’ সমাজবহির্ভূত সিনেমা নয়, বা খুবই সংকীর্ণ আঙ্গিক থেকে একটা জিনিসকে তুলে ধরা নয়। সত্যিটা যদি মানতে আপত্তি থাকে আপনাদের, তবে আপনারা সেই সমস্যার একটা অংশ।
যাইহোক - মৃত্যু জীবনকে সবসময় আলো দেয়, এমনটাও নয়। মৃত্যু শুধুমাত্র একটা স্টেট অফ বিয়িং থেকে স্টেট অফ নন-বিয়িং ব্যতীত আর কিচ্ছুটি নয়। তাতে একটা মানুষের সমস্ত কর্ম মিথ্যে হয়ে যায় না, ইনভ্যালিড হয়েও যায় না।
ফলে, আমার ঠাকুমা-দাদু - যাঁদের সমাজ অন্তত চেনে অত্যন্ত মিষ্টভাষী, ভদ্র, ভালো বলে - তাঁদের আসল রূপটা জেনে, দেখে অন্তত আমি তাঁদের পুজো করতে অক্ষম।
পুনশ্চ - উপরোক্ত শরিকদের একজন আমার আর মায়ের ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছেন, যিনি সেইসময়ে উপরোক্ত ব্যাপারগুলোয় দিব্য মদত দিতেন, প্ররোচনাও - বর্তমানে তিনি সাধু সেজে এখান-ওখান থেকে টাকা ধার করে ও সেটা মেরে দিয়ে দুদিন অন্তর বাসা বদলান, স্ত্রী জীবিত থাকাকালীনও গুছিয়ে পরকীয়া করতেন, এবং এখন অল্পবয়সী মেয়েদের সঙ্গে ফেসবুকে 'বন্ধু হবে ডিয়ার?’ করে বেড়ান - এখন তিনিই আবার 'বাবা কেমন আছিস, মা কেমন আছিস’ করে দেখনদারি নাটক মারতে আসেন।
সত্য সেলুকাস, কী চুতিয়া এই আত্মীয় জাতটা!



