Monday, 24 October 2016

ঠিকানাহীন চিঠি : ২

প্রিয়তমা,


এটাও আরেকটা না পাঠাতে পারা চিঠি। এরকমভাবেই চিঠির পরে চিঠি জমতে থাকবে আমার কাছে। আমার একান্ত আপন, একান্তই নিজের আবেগগুলো জমা হতে থাকবে এই চিঠিগুলোতে। একদিন, সব জড়ো করে কেরোসিন ঢেলে জ্বালিয়ে দেবো সব ,সেই সঙ্গে নিজেকেও। নিজেকেই জ্বালানো তো ওগুলো, না? পোড়া ছাইগুলো দিয়ে এপিটাফ লিখবো নিজের। "এক ইজাজত দে দো বাস, জাব ইনকো দাফনাউঙ্গা,

ম্যায় ভি ওঁহি সো জাউঙ্গা..."


যাকগে। আপাতত ওসব থাকুক।



জানো, আজকাল খুব মনে হয়, এই জগৎটা খুব দ্রুত চলছে। সবাই তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৌড়ে চলছে।
আর এই গতির মাঝে বেগতিক আমি তাল মেলাতে না পেরে একজায়গায় বুঝভুম্বুল হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশ দিয়ে ঝড়ের মতো বেরিয়ে যাচ্ছে সব। ফাস্ট। ফাস্ট। দৌড়োও, থেমো না।
এই বেমানান আমিটা শুধু মুহূর্তের টুকরোটুকরো কুড়োই। সেগুলোকে তারপর একটা থলির মধ্যে ভরি, দিয়ে কাঁধে নিয়ে আস্তে আস্তে পথ হাঁটতে থাকি।

জানো, তুমি যখন কালকে ওই ময়ূরকণ্ঠী নীল রঙের শাড়িটা পরেছিলে, আমার সব পুরোনো কথা মনে পড়ে যাচ্ছিলো। থলিটা ঘেঁটে স্মৃতিগুলো হাতড়ে হাতড়ে দেখছিলাম। অদ্ভুতভাবে তাজা এখনো, একটা গোটা বছর কেটে যাওয়া সত্ত্বেও।
মনে আছে, তোমাকে প্রথম যখন দেখেছিলাম, তুমি একটা নীল কুর্তি পরেছিলে? তোমার ব্যাচের বাইরে চুপ করে দাঁড়িয়েছিলাম আমি। সঙ্গী ছিলো সহজাত নার্ভাসনেস, আর একটার পর একটা পুড়তে থাকা সিগ্রেট। তুমি আস্তে আস্তে এগিয়ে এসেছিলে আমার দিকে। সেটা চৈত্রমাস ছিলো না, প্রহরশেষের আলোও ছিলো না সেইসময়ে, ত্রিফলার আলো ছাড়া। তবুও, তোমার অল্প কাজলপরা চোখে আমার সর্বনাশ দেখেছিলাম। I saw myself getting burnt in those calming, gentle eyes. ওরকম অপ্রস্তুত আমিটাকে দেখেই তুমি প্রথম নীরবতাটা ভাঙলে, প্রবল ইন্ট্রোভার্ট হওয়া সত্ত্বেও।
'অন্য কোথাও যাওয়া যাক?'
চুপ করে তোমার পাশ ধরে হাঁটছিলাম। মাঝখানে ছিলো আমার সাইকেলটা। প্রবল নার্ভাস আমি ক্রমাগত বোকাবোকা প্রশ্ন করে চলেছিলাম। আর তুমি মৃদু প্রশ্রয়ের ভঙ্গীতে সেগুলোর উত্তর দিচ্ছিলে। একটুও বিরক্ত হওনি।

মনে আছে, আমরা তারপর একটা পুকুরধারে গিয়ে বসেছিলাম? চারপাশে লোকজন ছিলো না কোনো। শুধু হলদেটে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় উদ্ভাসিত আমরা ছিলাম। ওই ল্যাম্পপোস্টের আলোতেই তোমার মুখটা দেখছিলাম, কনে দেখা আলোয় যেমন বিবাহযোগ্যা কনেকে দেখা হয়।
চারিদিক নিশ্চুপ ছিলো। শুধু মাঝে মাঝে একঝাঁক ঝিঁঝিঁ বোকা, নার্ভাস, আনস্মার্ট, স্কুলপড়ুয়া আমিটাকে যেন ব্যঙ্গ করে যাচ্ছিলো।
আমি যতটা সম্ভব দূরত্ব রক্ষা করে বসছিলাম, যাতে অসাবধানে হাতে হাতে ছোঁয়াটুকুও না লেগে যায়। যদি তুমি খারাপ ভাবো! যদি তক্ষুণি উঠে চলে যাও!
এই যদিগুলোর জন্য অনেক আপশোস করেছি জীবনে, জানো।

নীরবতা ভেঙে কোনোমতে কাঁপা-কাঁপা হাতে তোমার দিকে চিঠিটা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। আমার লেখা প্রথম প্রেমপত্র। চোখ তুলে তাকাতে পারছিলাম না ভালো করে সেইসময়ে। কেন জানিনা, সমানে মনে হচ্ছিলো, এই নিস্তব্ধতাকে ভেঙে খানখান করে যেন তুমি হেসে উঠবে আমার এই কাজটাতে। বা এইধরণের বোকামো দেখে তাচ্ছিল্য করতে শুরু করবে। আজকালকার টেকস্যাভি যুগে হাতের ছোঁয়াটোঁয়ার মূল্য আছে নাকি কোনো?
অদ্ভুত ব্যাপার, বা সাধারণ ব্যাপার, তুমি হাসলে। কিন্তু তাচ্ছিল্যভরে না। যেভাবে নবসূতিকা তার সদ্যোজাতকে পরম সাবধানতার সাথে নেয়, সেইভাবে তুমি অদ্ভুত স্নেহমাখা একটা হাসির সাথে চিঠিটা নিলে,পরম যত্নে।
সেই মুহূর্তটাকে জানো, চিরকালের মতো বন্দী করে রেখে দিয়েছি মনের গোপন এক কোণে। পিকচার-পারফেক্ট বলে একটা কথা আছে না? ওই মুহূর্তে তোমাকে না দেখলে কথাটার মানেটাই হয়তো কোনোদিন ধরা দিতো না আমার কাছে।

তুমি নিলে। পরিপাটিভাবে ব্যাগের চেনটা খুলে চিঠিটা ঢোকালে। অন্য কোনো এক খাপ থেকে বার করলে একটা ফোল্ডেড আর্টপেপার। দিয়ে বলেছিলে,
'দ্যাখো,ওর ছবি। আঁকলাম।  ভালো হয়েছে না?'
আমি দেখেছিলাম। চুপ করে। তোমার ভালোবাসার মানুষটার ছবি। যে তোমাকে ভালোবাসে না। চায় না। অথচ তুমি যাকে চাও।
তোমার ভালোলাগা মানে আমারও ভালোলাগা, এমনটা হলে ভালো হতো। কিন্তু হলো না। কেন জানি না, অতটা উদার হতে পারলাম না। চুপ থেকে একটা অস্ফুট 'ভালোই' ছাড়া কিছুই বলবার ছিলো না।

তারপর আবার হাঁটা, হাঁটতে হাঁটতে মেইন রোডে এসে তোমাকে রিকশায় তুলে দেওয়া। যতক্ষণ না রিকশাটা একটা বাঁক নিয়ে বড়ো রাস্তা থেকে ডানদিকের গলিতে ঢুকে যাচ্ছে, ততক্ষণ রিকশাটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা। এই ছিলো আমার প্রত্যেক মঙ্গলবারের রুটিন।

জানো, এখনো সেইদিনটা মনে পড়ে, যেদিন পয়লা বোশেখ ছিলো, আর আমি চুপ করে তোমার বাড়ির গলির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ঠায় তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টা। চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম,যদি একটাবার তুমি বারান্দা থেকে উঁকি মারো। একটাবার গেট খুলে বেরোও।

সব প্রত্যাশাগুলো সম্পূর্ণ হয় না। হয় না বলেই আমরা বোধহয় অপেক্ষা করি। দাঁড়িয়ে থাকি ঠায়, প্রত্যাশাগুলো পূর্ণ হওয়ার আশায়। সকল নিহিলিজম ছুঁড়ে ফেলে দিই আমরা। প্রবল নাস্তিকও আস্তিক্যবাদী হয়ে ওঠে, চিঠিগুলো ঠিকানা খুঁজে পাবে, এই আশায়।

এক প্যাকেট সিগারেট উড়িয়ে যখন চুপ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম, চোখের সামনে একটাই মেসেজ ভাসছিলো।
'সরি। মায়ের সাথে ঝগড়া করেছি। বেরোতে ইচ্ছে করছে না। তুমি চলে যাও।'
চলে যাও। চলে যাও। চলে যাও।

আমরা চলে আসি। চলে এসেছি। চলে যাই আমরা।

কোনো অভিযোগ করিনি কোনোদিন। অভিযোগ ছিলোও না মনে। অভিযোগ করবোই বা কোন দিক থেকে? তুমি কি আমার ছিলে? আমার হবে? চুপ করে মেনে নিয়েছিলাম।

এমনকি,তুমি যেদিন বলেছিলে, সুগার অ্যান্ড স্পাইসে দাঁড়িয়ে খেতে খেতে, যে তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারবে না কোনোদিন, আমি সেদিনও কোনো অভিযোগ জানাইনি। নতমস্তকে মেনে নিয়েছিলাম। চুপ করে বিলটা মিটিয়ে বেরিয়ে এসে তোমাকে রিকশায় তুলেও দিয়েছিলাম। তাকিয়েও ছিলাম রিকশাটা মোড় ঘোরা পর্যন্ত।
হয়তো আমারও মোড়টা ঘুরে গিয়েছিলো।
তারপর থেকে এই গতকাল যাবৎ তোমার সাথে আর দেখা করিনি। ফোন নাম্বার, ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ, যতভাবে মানুষ যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করতে পারে,ততভাবেই করেছিলাম। ভেবেছিলাম, ভুলে যাবো। পারলাম কই? কালকে নিয়তি তোমাকে আবার পাঠালো, ওই ময়ূরকণ্ঠী নীল রঙের শাড়িটা পরিয়ে। আমার সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো। এইভাবেই বোধহয় নিয়তি আমাদের সাথে পরিহাস করে যায় কখনো কখনো।
নাহ্। অনেক কথা বলে ফেললাম। তুমি এগিয়ে যাও তোমার মতো। এই সদা চলমান জগৎে দৌড়োতে থাকো, যত জোরে পারো। আমার তো আছেই, স্মৃতি ও মনখারাপের সেই পুরোনো ঝুলিটা। যেটা থেকে দরকার পড়লে মাঝে মাঝে এই স্মৃতিগুলোকে বার করে সযতনে হাত বোলাবো, যেরকম করে আমরা গোপন ফোঁড়ায় হাত বোলাই। খুব যত্নে। সঙ্গোপনে। আদরের সাথে। দিয়ে ঝোলাটাকে কাঁধে ফেলে আবার আস্তে আস্তে হাঁটা শুরু।
চল মুসাফির, বাঁধ গাঁঠেরিয়া.......

ইতি,
....

Tuesday, 11 October 2016

ঠিকানাহীন চিঠি : ১

প্রিয়তমা,
দেখবো-দেখছি করতে করতে পুজোটা এসে গেলো। এবারে জানো, পুজোর গন্ধটা সেইভাবে আর পেলাম না। পাওয়া হলো না। আমার কাছে পুজো এলো প্রতিদিন ট্রেনে যাওয়ার রাস্তায়, ভিড়ে ঠেসাঠেসি করতে করতে একঝলক নীল আকাশ ও আইসক্রিমসম দুগ্ধফেননিভ মেঘের খুনসুটি দেখতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে।
এইভাবে পুজো আসবে, ভাবতে পারিনি। বড়ো হয়ে গেলাম, জানো। আগে হলে পুজোর জামাকাপড়, কোনদিন কী পরবো, এই নিয়ে মায়ের সাথে তুমুল ঝগড়া, মাথার পাশে ক্যাপ বন্দুক নিয়ে(অবশ্যই ক্যাপ খুলে) ঘুমোনো, সকালবেলা থেকে পাড়ার প্যাণ্ডেলে বসে থাকা - এইসব নিয়ে পুজো কেটে যেতো।
জানো, আমার কোনো বন্ধু সেইভাবে কোনোদিনই নেই। পাড়াতেও ছিলো না। একা একা চুপ করে বসে থাকতাম, আর পা দোলাতাম। চারপাশে লোকে ঘুরতো, বন্ধুরা আড্ডা দিতো, ছেলেমেয়েরা প্রেম করতো, আর আমি পা দোলাতাম আর গান গাইতাম। আমার গলাটা বড্ড বেসুরো। তাতে আটকাতো না কিছুই। আপনমনে, আস্তে আস্তে গেয়ে যেতাম একের পর এক গান। শেষে চেয়ার ছেড়ে চুপটি করে উঠে ঘরে চলে যেতাম। কেউ জিজ্ঞাসাও করতো না, বিদায়সম্ভাষণও জানাতো না। আমার অবশ্য তাতে কিছু এসে যেতো না। আমি ছোটো থেকেই একলাটি বড়ো হয়েছি। বাবা-মা চাকুরিসূত্রে বাইরে থাকতো সারাদিন, আর আমি প্রাণবন্ত মৃতের স্তুপে, অর্থাৎ কিনা, বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে দিন কাটাতাম। 'My days among the Dead are past;
Around me I behold,
Where'er these casual eyes are cast,
The mighty minds of old;
My never-failing friends are they,
With whom I converse day by day.'
সাউদির এই কবিতাটা আমার দাদু, যাকে আমি ভালোবেসে 'ভল্টু' বলে ডাকি, তারই লিখিয়ে দেওয়া একটা প্যারাগ্রাফে পাওয়া ইস্তক মনে গেঁথে রেখেছিলাম।
আমার দিন কাটতো অপুদুর্গার সাথে। আমার দিন কাটতো শঙ্কুর সাথে। আমার দিন কাটতো উপেন্দ্রকিশোরের সাথে, সুকুমারের সাথে, লীলা মজুমদারের সাথে। আমার দিন কাটতো এনিড ব্লাইটন আর ষষ্ঠীপদ চাটুজ্যের সাথে। সেই দিনগুলো বড়ো ভালো ছিলো, জানো। কোনো চিন্তা ছিলো না, আশঙ্কা ছিলো না, পড়াশুনার চাপ ছিলো না, প্রেম ছিলো না, বাইরে মদ খেয়ে বাড়িতে ধরা পড়ার ভয় ছিলো না, বাবার পকেট থেকে সিগারেট চুরি করে ধরা পড়বার চিন্তা ছিলো না। বেড়ে ওঠবার যন্ত্রণা ছিলো না। 'I mourn that the days have so soon glided by...' পেটভরা খাবার, নিশ্চিন্ত ঘুম, গল্পের বই, গান, সিনেমা নিয়ে কাটতো।
যাইহোক। অন্যদিকে চলে যাচ্ছি বড়ো। এইটাই আমার দোষ, জানো, লিখতে লিখতে কী লিখি, কেন লিখি, জানি না। প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে চলে যাই বার বার। আমি ভালো বক্তা, বা ভালো লেখক কোনোদিনই না। বড্ড আবেগপ্রবণ। আবেগ রমণ করে চেতন ভগত আসতে পারে, বাজারে কাটতে পারে। তবুও, আমার কলাকৈবল্যবাদ ছাড়া আর কিছুই যে নেই!
যাকগে। এইবার পুজোটা বড়ো অদ্ভুত লাগছে। বড়ো ক্লান্ত লাগছে। বিষণ্ণ লাগছে। পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে এখান থেকে। পিছুটানগুলো এড়াতে পারি না, এই যা।
জানো, এইরকম এক পুজোয় আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম। ক্লাস এইট কি নাইন হবে। আর পাঁচটা বাঙালীর মতোই, অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দিতে গিয়ে প্রেমে পড়ি।
দিনটা বার বার মনে পড়ছে আজ। বরাবরের ঘুমকাতুরে আমিকে ধাতানি দিয়ে, চাদর টেনে বাবা ঘুম থেকে তুলেছিলো। কোনোমতে ঢুলুঢুলু চোখে স্নান সেরে, নতুন পাঞ্জাবি গায়ে গলিয়ে অঞ্জলি দিতে গিয়েছিলাম। তখনই তাকে দেখেছিলাম। একটা গাঢ় সবুজ রঙের শাড়ি পরেছিলো সে। সোনালি পাড় দেওয়া। জরির কাজ বোধহয়। ওসব শাড়িটাড়ির মতন মেয়েলি জিনিস(নব্য নারীবাদীরা আমাকে ক্ষমা করবেন) আমার দ্বারা বোঝা হয় না। বোঝা হয়নি। তার পিছনে দাঁড়িয়েছিলাম আমি। পিছন থেকে ফরসা, ঘেমো পিঠটা চোখে পড়ছিলো। পিঠে দু-তিনটে বিচ্ছিন্ন চুল আটকেছিলো। পিঠে বিন্দু বিন্দু ঘাম, তারমধ্যে আটকে থাকা চুল, তার গাঢ় সবুজ শাড়ি আমাকে ইনটক্সিকেটেড করে দিচ্ছিলো। আমি ধুলোপড়া সাপের মতন সম্মোহিত হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
মেয়েদের সিক্সথ সেন্স বরাবরই ভালো, জানো। আগেও দেখেছি, তখনও দেখলাম। হুট করে পিছনে ফিরে তাকালো সে। আমার ঘোর কেটে গেলো। আমি সামনে তাকিয়ে অদ্ভুত সুন্দর একটা মুখ দেখলাম। সেই মুখের বর্ণনা দেওয়ার মতন উপমা আমার জানা নেই। আমি কবি নই, সাহিত্যিক নই, আলঙ্কারিক নই। শুধু এইটুকুই বলতে পারি, সেই মুখটা অন্যরকম অদ্ভুত, অন্যরকম সুন্দর।
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলেনি। আবার মুখ ঘুরিয়ে মন্ত্র পড়তে থাকে, দিয়ে বেরিয়ে যায়।
আমি তার নাম,ধাম, পরিচয়, কিচ্ছু জানতে পারিনি। জানার আগ্রহ হয়নি। বা সাহস হয়নি।
চণ্ডাল দিয়ে কি দেবীপূজা হয়?
এখন জানো, পুজোতে প্রেমে পড়াটাও বড্ড মেকি হয়ে গ্যাছে। কেউ প্রেমে পড়ে না। কেউ ক্যাপ বন্দুক ফাটায় না। এইবছর ক্যাপ বন্দুক ফাটাতেও দেখলাম না সেরকম কাউকে। সবই কেমন ম্যাড়মেড়ে হয়ে গ্যাছে। নাকি, আমি নিজেই ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেছি? বা অত্যন্ত নিহিলিস্ট হয়ে গেছি?
কে জানে।
পুজোটা কেমন বদলে বদলে যাচ্ছে। সাথে আমিও। সাথে ছোটোবেলাটাও। সেই আমেজটাও।
এই বদলগুলো কি দরকারি ছিলো?
বড্ড ক্লান্ত লাগে আজকাল। কে জানে, কেন।
যাইহোক। অনেক কথা বলে ফেললাম। এইটুকুই থাক। শুভ শারদীয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জেনো।
ইতি,
....

'ঠাকুরমার ঝুলি'

 আজকে আমার ঠাকুমার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২১ সালের এই দিনেই তিনি গত হয়েছিলেন। এইটুকু পড়েই অনেকে হয়তো, 'ওঁ শান্তি, আত্মার শান্তি কামনা করি, তি...